শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

বীরকুৎসা হাজার দুয়ারী জমিদার বাড়ি একটি প্রাচীন নিদর্শন

আফাজ্জল হোসেন, বাগমারা (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাগমারার প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনের অন্যতম স্থান বীরকুৎসা হাজার দুয়ারী জমিদার বাড়ি। মূল ভবনের কিছু অংশ ভেঙে পড়লেও এখনো সকলের নজর কাড়ে বিশেষ কারুকাজ বিশিষ্ট এ পোড়া বাড়িটি। জমিদারের কোনো বংসধর বর্তমানে এই বাড়িতে না থাকলেও প্র্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন এই পুরাতন বাড়িটি আজও তার কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ১৯৪৭ সালে জমিদার বীরবাবু ও তার পরিবারবর্গ ভারতের হুগলী জেলার চন্দননগরে চলে যাওয়ার পর থেকেই অদ্যাবধি এ বাড়িটিতে স্থায়ীভাবে কোনো লোকজন বসবাস করে না।

 à¦¬à¦¾à¦—মারার প্রচীন ঐতিহাসিক নির্দশনের অন্যতম স্থান বীরকুৎসা হাজার দুয়ারী জমিদার বাড়ি। জমিদার না থাকলেও জমিদারের পুরাতন বাড়িটি কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ থেকে à§§à§® কিঃ দুরত্বে বাগমারা সীমানার শেষ প্রান্তে বীরকুৎসা। উপজেলার এক মাত্র রেল পথ ও রেলস্টেশন বীরকুৎসা। নাটোর-সান্তাহার রেলপথের পার্শ্বে ৫০ বিঘা জমির উপর এই প্রকান্ড প্রাচীন জমিদার বাড়ি অবস্থিত। বাড়িটির এক সময়ে হাজারটি দুয়ার ছিল বলে এর নামকরণ হাজার দুয়ারী। বর্তমানে বাড়ির বিশেষ বিশেষ অংশ ভেংগে পড়েছে। আঠারে শতাব্দীর মাঝা মাঝি সময়ে জমিদার অবিনাশ এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। জমিদার অবিনাশের কোন পুত্র সন্তান না থাকায় ভারতের হুগলী এলাকার তার ভাগ্নে পঞ্চাননের সাথে তার মেয়ের বিয়ে দিয়ে তার জমিদারীর দায়িত্বভার প্রদান করেন। এই পঞ্চাননের à§© পুত্র রামাবাবু, দূর্গাবাবু ও বীরবাবু। পঞ্চানন বাবুর প্রিয় পুত্র ছিল বীরবাবু তিনি পরবর্তীকালে জমিদারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দ্বীতল ও এক হাজার দুয়ার বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ কাজ সম্পর্ন করেন। বীরকুৎসা হাজার দুয়ারী জমিদার বাড়িকে ঘিরে জড়িয়ে আছে নানা স্মৃতি। এই মতের ধারক বাহকরা মনে করেন, বীরবাবুর নাম অনুসারে ওই এলাকার নামকরণ হয় বরিকুৎসা। অন্য মতে, বীরবাবুর চেহারা কালো কুৎসিত। তিনি খুব শক্তিশালী ও যোদ্ধা ছিলেন। ফলে তার নাম অনুসারে বীরকুৎসা নামকরণ হয়েছে। আর তাঁর নামে ওই এলাকার বিল, স্টেশন, স্কুলসহ সব কিছুরই নাম আজোও বীরবাবুর নাম বয়ে আসছে। 

বীরবাবুর কর্মচারী কালীপদ নামক এক ব্যক্তির বরাদ দিয়ে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম নামে এক স্কুল শিক্ষক জানান, ১৯৪৭ সালে তৎকালীন জমিদার বীরবাবুর পরিবার বর্গ নিয়ে ভারতের হুগলী চন্দনগরে চলে গেলে পরবর্তীকালে এই বাড়িটি সরকারের দখলে চলে আসে। এখনও জীবিত বীরবাবুর কর্মচারী কালীপদের বর্ণনায় তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, বীরবাবু উচ্চ শ্রেণীর জমিদার। অথচ তিনি ছিলেন সহজ সরল প্রকৃতির। জমিদার বীরবাবুর ৫ পুত্র পরিমল, নির্মল, সুনীল, শ্যামল ও অমল। তাঁর ১টি হাতী ও ৪টি লাল বর্ণের ঘোড়া ছিল। হাতীতে চড়ে বীরবাবু জমিদারী স্টেট দেখাশুনা করতেন। জমিদারের ১৭টি নায়েব খাজনা আদায় ও হিসাব রাখতেন। কালের বিবর্তনে জমিদার নেই, কিন্তু তার স্মৃতি বহন করছে বিশাল ধ্বংসাবশেষ বিশাল হাজার দুয়ারী জমিদার বাড়ি। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিশাল ভগ্নদশা এই বাড়িটি বর্তমান বেহালদশা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম জানান, বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে রয়েছেন প্রতœà¦¤à¦¤à§à¦¤à§à¦¬ বিভাগ। হাজার দুয়ারী বাড়িটি একটি ঐতিহাসিক নির্দশনা। সংস্কারের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও সংস্কার করলে জমিদার বাড়িটি হতে পারে এ উপজেলার একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে তিনি যোগাযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ